পিরামিড: পিরামিড (Pyramid) হলো এক প্রকার জ্যামিতিক আকৃতি বা গঠন যার বাইরের তলগুলো ত্রিভূজাকার (Triangular) এবং যারা শীর্ষে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। পিরামিড একটি বহুভূজাকৃতি ভূমির উপর অবস্থিত। বহুভূজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্বতলগুলো প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার, তাকে পিরামিড বলে। পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন ৭ম আশ্চযের একটি। প্রাচীন মিশর শাসন করতেন ফিরাউন (প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা রাজাদের ফিরাউন বলা হতো.পিরামিড প্রাচীন মিসরীয়দের এক অন্যন আশ্চর্য কীর্তি.গ্রিক ভাষায় পিরামিড শদ্বের অর্থ “খুব উচু”. পিরামিড হলো পাথরের তৈরি আকাশচুম্মী বিশাল এীকোণাকার সমাধিসেীদ. এ পর্যন্ত ৮০টির বেশী পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে.যার ৭০টিরও বেশী কালের সাখী হয়ে টিকে আছে. পিরামিডগুলোর মধ্যে সবচেয়েবড় ও উচু হলো নীলনদের মরুময় গিজা এলাকাই অবস্হিত বিথ্যাত ফারাও খুফুর(খ্রিষ্টপূর্ব ২৭০০-২৬৭০)পিরামিড.১৩ একর জমির উপর ২৩ লাখ খন্ড চুনাপাথরের তৈরি এই পিরামিডটি ৪৮১ ফুট বা ১৪৭ মিটার উচু. এক লাখ কারিগর ২০ বছরের প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়.প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল মৃত্যুর পর জীবন আছে.
সে জীবনে ফারাওদের নেতৃত্ব প্রয়োজন.জীবনটাকে যাতে উপভোগ করা যায়, সে চিন্তায় মিশরীয়রা অস্থির থাকতো। ব্যক্তির গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে গুরুত্ব আরোপ করা হতো এ ব্যাপারে। ব্যক্তি যতো গুরুত্বপূর্ণ হতো এ কাজে গুরুত্ব ততো বেশি বেড়ে যেতো। পরবর্তী জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য স্বভাবতই ফারাওদের ব্যাপারেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। ক্ষমতায় আসা নতুন ফারাওয়ের প্রথম কাজ সম্পন্ন করা। প্রত্যেকেই চাইতেন বিশাল আয়তনের হোক তার সমাধিক্ষেত্র। অনেকেই মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সমাধিক্ষেত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যেত। এসব সমাধিক্ষেত্র আসলে মৃতের আত্মার ঘর। মিশরীয়রা মনে করত, লাশ বা মৃতদেহ টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করে আত্মার বেঁচে থাকা বা ফিরে আসা। এ কারণেই মৃতদেহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মমি করতো তারা। আত্মার বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রয়োজনীয় নানা জিনিস। তাই নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে খাবার-দাবার মৃতদেহের সাথে দিয়ে দিতো তারা। সমাধিস্তম্ভ প্রধানের দায়িত্ব ছিলো দস্যুদের হাত থেকে মৃতদেহ আর তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র রক্ষা করার। কিন্তু কবরে সমাধিত ব্যক্তিটি কত বিপুল পরিমাণ বিত্ত আর ক্ষমতাবান ছিল তা জাহিরের উদ্দেশ্যেও নির্মাণ করা হতো পিরামিড। তাই ফারাওদের মৃতদেহের সাথে কবরস্থ করা হতো বিপুল ধন-সম্পদ। সমাজের বিত্তশালীদের কবরেও মূল্যবানসামগ্রী দেয়া হতো। এমনকি, নিন্মশ্রেণীর মানুষদের কবরেও সামান্য পরিমাণ হলেও কিছু খাবার রেখে দেয়া হতো।


