Featured Posts

Most selected posts are waiting for you. Check this out

কুরআন  সম্পকে কিছু কথা

কুরআন সম্পকে কিছু কথা

quran



 কুরআন একটি পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ যা ইসলাম ধর্মের অনুযায়ী মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি বিশ্বাস করা হয় যে, এই গ্রন্থটি প্রফেত মুহাম্মদ (সা.) এবং ফারিস্তা জিবরাইল দ্বারা ঈশ্বর দ্বারা মানুষের উপর নাযিল করা হয়েছিল। কুরআনে আল্লাহ (সুবহানহু ওয়াতা'আলা) এবং মানবজাতির মধ্যে সম্পর্কের নির্দেশনা, নীতি, সুবিধা, এবং নৈতিক দিক সহ বিভিন্ন বিষয়বস্তু আছে। কুরআনের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছে এমন ধর্মীয় এবং জীবন শৈলীর ব্যাপারে যা মুসলিমদের জীবনে প্রয়োজন। এটি আল্লাহের প্রেম, মানবতার সমর্থন, এবং ন্যায়ের প্রতিবাদ এবং শাস্তির উদ্দেশ্যে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করে।


কুরআনের ভাষা অত্যন্ত সুন্দর এবং কাব্যরূপী, এবং এটি মুসলিমদের নৈতিকতা, আচরণ, এবং আত্মিক উন্নতির জন্য একটি পরামর্শ পূর্ণ সূত্র হিসেবে প্রমাণিত করে। কুরআনের বাণী একটি দিক থেকে আমরণ করায়, উপন্যাস লেখায়, ধার্মিক আদর্শ গড়ায় এবং নৈতিক শৃংখলা প্রদান করায়। এটি সামাজিক এবং আদর্শবাদী সাংস্কৃতিক উন্নতির প্রবৃদ্ধির জন্য উৎসাহ দেয়, এবং মুসলিম সম্প্রদায়ে একটি পর্যাপ্ত সংগ্রাম দান করে যাতে তারা মনোনিবেশ এবং উন্নত করতে পারে।


সংক্ষেপে বলা হলে, কুরআন মুসলিমদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র একটি গ্রন্থ, যা তাদের ধর্ম, নৈতিকতা এবং দৈনন্দিন জীবনের দিক নির্দেশনা দেয়।

আরব সংস্কৃতি

আরব সংস্কৃতি

 


আরব সংস্কৃতি


আরব সংস্কৃতি একটি উদার ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয় যা প্রাচীন আরব জগতের সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বৃদ্ধির সৃষ্টিকারী ছিল। আরব সংস্কৃতির মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে কোরান এবং ইসলামিক ধর্মের প্রবাহী বৈশিষ্ট্য ছিল, যা সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় জীবনে একটি দৃঢ় পায়ের রূপে গঠিত হয়েছিল।


ভাষা: আরব ভাষা হল প্রাচীন আরব সংস্কৃতির মৌলিক মাধ্যম, এবং কোরান এবং ইসলামিক গ্রন্থাবলী তার প্রধান শখ। এই ভাষা বৃদ্ধি করে এবং এই বিশেষ ভাষা বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য হতে গেল।


সাহিত্য: আরব সাহিত্য একটি প্রাচীন এবং প্রাসাদিক ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। এই সাহিত্যে আল-কুরআন ছিল একটি মৌলিক ভূমিকা যা ধার্মিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকারী হিসেবে বিশ্বাস করা হয়। আরব সাহিত্যে একটি বিশেষ গল্পকার সাংস্কৃতিক কারণে, যার মধ্যে আল-কাহফ ও আল-মালিয়ার দাস প্রসিদ্ধ ছিল।


শিল্প ও সাংস্কৃতিক উদ্যম: আরব সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সৌন্দর্য সেনা ছিল ইউনিক অরণ্য, যা সংস্কৃতির একটি অভ্যন্তরীণ অংশ ছিল। আরব কবি ও লেখকরা সুন্দর সাহিত্যিক কৃতিত্ব সৃষ্টি করে, এবং চাঁদ ও সিতারা পর্যায়ে গঠিত ছিল সুন্দর বিলাসসভা।


ধর্ম ও প্রথা: আরব সংস্কৃতির মৌলিক অংশ হিসেবে ইসলাম ধর্ম এবং কোরানের প্রবাহী প্রভাব জন্মায়। কোরান এবং ইসলাম ধর্ম আরব সংস্কৃতির অন্তর্গত ছিল এবং এই ধর্ম বিশেষভাবে আরব রাষ্ট্রে প্রচলিত ছিল।


আরব সংস্কৃতি একটি উদার, সমৃদ্ধ এবং বিশেষ ধর্মীয় জীবনের প্রভাবী সাংস্কৃতি।আরব সংস্কৃতি কেন্দ্রিক ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, ও ধর্ম এর মধ্যে একটি প্রস্তুত বিকাশ প্রদর্শন করে। এই সংস্কৃতির মধ্যে প্রাচীন আরব সমাজের সাংস্কৃতিক বৃদ্ধি, মানসিকতা, এবং মৌলিক মূল্যবোধ প্রকাশ পায়ে। আরব সংস্কৃতির বৃদ্ধির সাথে সাথে আরব জগতে ধর্মীয় পরিবর্তনের আগ্রহ বৃদ্ধি করে, যা পরবর্তী কালে ইসলামী ধর্মের উদ্ভবে প্রভাব ফেলে।


আরব সংস্কৃতির উভয় ভাষা ও সাহিত্যে মহান বিভিন্ন কবি, লেখক এবং শিক্ষার্থীর চেষ্টা ছিল গহীল, আম্র এবং কুরায়শ। এই লোকের কাজের মধ্যে কোরানের উদ্ভোধন এবং ইসলামী ধর্মের প্রসারের জন্য গঠিত শিক্ষাগত ও সাহিত্যিক উদ্যম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।


আরব সংস্কৃতির শিল্পের একটি প্রকাশ হিসেবে প্রাচীন আরব রাষ্ট্রে একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থাগার ও কিংবদন্তি মহাসভা ছিল, যা আরব ভাষায় লেখা গ্রন্থ এবং কাবা শহরের মাখানে অবস্থিত ছিল। এই মহাসভার কাজের মধ্যে আল-কাহফ ও আল-মালিয়ার দাস প্রস্তুতি ছিল বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।


ধর্ম ও প্রথা: আরব সংস্কৃতির একটি প্রায় অপরিহার্য অংশ ছিল ইসলাম ধর্ম এবং কোরানের প্রবাহী প্রভাব, যা মৌলিক বৃদ্ধি করে এবং আরব রাষ্ট্রে প্রচলিত ছিল। ইসলামের উদয়ের সাথে এই ধর্মীয় উদ্ভব এবং প্রসার আরব সমাজ এবং সাংস্কৃতিক জীবনে একটি নতুন প্রশাসনিক এবং ধর্মীয় অর্থনৈতিক বিন্যাসের কারণে হয়েছিল।


সংক্ষেপ্তভাবে বলা যাক, আরব সংস্কৃতি একটি উদার সাংস্কৃতিক পরিবেশ, যা প্রাচীন আরব রাষ্ট্রের বৃদ্ধি এবং উন্নতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আরব সংস্কৃতি বিশ্বের একটি প্রাচীন এবং মহৎ সংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম। এটি হিজাজের মধ্যে অবস্থিত ছিল, যেখানে আজকের সৌদি আরব অবস্থিত। আরব সংস্কৃতির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজ করা, যার প্রভাবে এটি আরব জগতের প্রধান ধর্ম হয়ে উঠল। আরব সংস্কৃতির উদ্ভব ও বৃদ্ধির কারণে মুসলিম ধর্ম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হয়ে উঠেছে।


আরব সংস্কৃতির ধার্মিক অঙ্গ বৃদ্ধি পেয়েছিল বিশেষভাবে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে, যখন কোরানের মধ্যে উক্ত হয়েছিল প্রসারিত বাহ্যিক ধর্মের বিষয়ে। আরব সংস্কৃতির বিভিন্ন মহান গ্রন্থগুলি প্রকাশ পেয়েছে, যা মুসলিম ধর্ম ও আরব সাহিত্যের সমৃদ্ধির অংশ হয়ে উঠেছে।


আরব সংস্কৃতির শিল্প সেগুলি প্রাচীন কালে ভারতের কুম্ভমেলা বা ইজ্জতমেলা জাত্রা এবং মেক্কা-মদীনা গোসলের মতো অনুষ্ঠানগুলিতে প্রচারিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে স্তোত্র, গান এবং বাক্যবংশী প্রচারিত হতো, যা ধার্মিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়াও, আরব সংস্কৃতির শিল্পে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছবি এবং প্রতিমা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, যা মুসলিম সমাজের প্রত্যাশার অনুমান করে।


আরব সংস্কৃতি একটি বৃহত্তর মৌলিক ধার্মিক উন্নতির এবং মানবিক বৃদ্ধির প্রকাশ করে। এটি ইসলাম ধর্মের প্রসার এবং আরব ভাষার প্রসার সাথে সম্পৃক্ত, যা আরব জগতে বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক উন্নতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পায়ে। এই সংস্কৃতি ধ

আরবের প্রাচীন ইতিহাস যেগুলো আমাদের  এখনো অজানা

আরবের প্রাচীন ইতিহাস যেগুলো আমাদের এখনো অজানা

 আরবের প্রাচীন ইতিহাস


আরবের প্রাচীন ইতিহাস একটি রহ

স্যময় এবং উদাত্ত কালের ইতিহাস। প্রাচীন আরব এলাকা, যা আধুনিক আরব দেশের অধিকাংশ অংশকে অক্ষত করে, একসময় পৃথিবীর অধিকাংশ অংশের সাথে সম্পর্কমুক্ত ছিল। এটি সেমিটিক ভাষা ও সংস্কৃতির জন্মভূমি ছিল, এবং বিভিন্ন ধর্মের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত।


প্রাচীন আরবের ইতিহাসে বিভিন্ন যুদ্ধ, সাংঘর্ষ, এবং প্রচলিত সংস্কৃতির মধ্যে একটি মহত্বপূর্ণ দ্বীপসমূহ ছিল, যার মধ্যে সিনাই, হিজাজ, কালেদনিয়া, এবং আমান অন্তর্ভুক্ত ছিল।


ইসলামের প্রবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য আরবের প্রাচীন ইতিহাসে একটি মহান ঘটনা হল মুহাম্মদ (সা.) এর প্রকাশ। 7ম শতাব্দীর মধ্যে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন ঘটে আরবের হিজাজ অঞ্চলে, যা বর্তমানকালে সৌদি আরব দেশ হয়ে ওঠলো। মুহাম্মদ (সা.) এর প্রবচন আরবী ভাষায় উপলব্ধ করে, যা তাদের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় জীবনে একটি অভিযান্ত্রিক পরিবর্তনের কারণে হয়েছিল।


ইসলামের গঠন এবং প্রসারের ফলে আরবের প্রাচীন ইতিহাসে একটি মহান পরিবর্তন ঘটে। আরব বিশ্ব এবং ইসলামী সাংস্কৃতি এবং প্রকৃতির সাথে অভিনব সংস্কার প্রদান করে। আরব জগতের প্রচলিত সংস্কৃতি বহুল এবং প্রভাবশালী হওয়ার কারণে, এই যুগে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় অবদান সৃষ্টি করা হয়েছিল।


এই সময়ের পরিবর্তে, বেশিরভাগ আরব রাজ্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক যুগের শাসন অধীন হয়েছিল, এবং এই প্রাচীন আরব সংস্কৃতি ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ক্ষুদ্র আরব রাজ্যগুলি একে অপরের সাথে সংঘটিত হয়ে একটি গণসম্প্রদায় গড়ে তুলেছিল, যা বিশাল বৌদ্ধিক বৃদ্ধি অর্জন করে। গুরুত্বপূর্ণ নগরিক দলের ভূমিকা সাধারণভাবে সংকীর্ণ ছিল, যেগুলি অত্যন্ত উন্নত তত্ত্বাবধায়িকা এবং গণসম্প্রদায়ের প্রচারক ছিল। এই গণসম্প্রদায়ের মধ্যে অপসনীয় কিছু স্ত্রীলোক ও গৃহস্থ রোমিলার সাথে এই সমাজ প্রবৃদ্ধি এবং সুষমভাবে মিলিত হয়।


এই সময়ের পরিবর্তে, বেশিরভাগ আরব রাজ্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক যুগের শাসন অধীন হয়েছিল, এবং এই প্রাচীন আরব সংস্কৃতি ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৃদ্ধি এবং এবং বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের উদয় এই সময়ের একটি অপরিহার্য অংশ ছিল।


এই সময়ে, আরব রাষ্ট্র এবং সংস্কৃতির প্রভাবে আরব বেল্টে সম্পত্তির একটি গৃহস্থ পদ্ধতি উদ্ভাবন হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে, মৃদু বৃদ্ধি, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা এবং প্রত্যাশাশীল নীতির মাধ্যমে অঞ্চলে কৃষি এবং প্রস্তুতিকরণে বৃদ্ধি হয়। এই পদ্ধতির সাথে তুলনামূলক সামর্থ্য এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারণা প্রসারিত হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধি এবং অনুভূতির সাথে মিশে গিয়েছিল।প্রাচীন আরব রাষ্ট্রের উপাস্য দেবতা ছিল পলিথিয়াই, ইস্তার, ওজ্জাইন এবং হুবাল। এই দেবতাগণ জীবনের বিভিন্ন দিকে প্রভাব ফেলতেন, যার মধ্যে কৃষি, বন্য ও সমৃদ্ধ বিনোদন ব্যক্তিত্বের উদয়, তথা পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে সেই মধ্যে প্রথম প্রবেশের প্রয়াস, অতিরিক্ত গণনাযোজ্য কৃষি ও আঁকারের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং প্রস্তুতিকরণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত ছিল।


আরব রাষ্ট্রের প্রাচীন ইতিহাসে প্রসিদ্ধ একটি অন্যত্র বিদ্যালয় ছিল, যা হয়েছিল নাহদা নামক বিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা দেওয়া হতো এবং প্রাচীন আরব সমাজে জ্ঞান, বৌদ্ধিকতা, এবং উপাস্যতা প্রবৃদ্ধি এবং মেধা প্রদান করতো।


এই সময়ের পরিবর্তে, আরব রাজ্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক যুগের শাসন অধীন হয়েছিল, এবং এই প্রাচীন আরব সংস্কৃতি ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৃদ্ধি এবং এবং বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের উদয় এই সময়ের একটি অপরিহার্য অংশ ছিল।


বিষয়শ্রেণী: আরবের প্রাচীন ইতিহাস, আরব সংস্কৃতি, ইসলামিক ইতিহাস, প্রাচীন সংস্কৃতি, বিশ্ব ইতিহাস।



 বিদায় হজ্জের ভাষণ

বিদায় হজ্জের ভাষণ

 আরবি দশম হিজরী সনে রাসূল (সাঃ)-এর বিদায় হজ অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষাধিক সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। যে কোন আদর্শিক নেতার জীবনের সর্বশেষ কর্মী সম্মেলনে দেওয়া ভাষণ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কেবল নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন শেষনবী ও বিশ্বনবী। অধিকন্তু তাঁর দৃঢ় আশংকা ছিল যে, এটাই তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্জ ও সর্বশেষ বিশ্ব সম্মেলন। আর নবী জীবনের পরিপূর্ণতা সাধিত হয়েছে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজ্জের ভাষণে।

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন দ্বিন ইসলামকে বিজয়ী ও পূর্ণতা দানের জন্য। যখন দ্বিন ইসলাম বিজয় ও পূর্ণতা লাভ করে তখন তিনি তাঁর বিদায়ের কথা অনুভব করেন।

দশম হিজরীতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সাহাবির সামনে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ বিকালে আরাফাতের ময়দানে যে বক্তব্য পেশ করেন এবং পরদিন ১০ জিলহজ ঈদের দিন ও কোরবানির দিন প্রদান করেছিলেন। এই দুইদিনে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে পরিচিত। 

তাই তিনি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা)-কে ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করে প্রেরণকালে বলেছিলেন, ‘হে মুয়াজ, সম্ভবত এ বছরের পর আমার সঙ্গে তোমার আর সাক্ষাৎ হবে না। হয়তো তুমি আমার মসজিদ ও আমার কবরের পাশ দিয়ে গমন করবে।’

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ :


১. হে জনতা, আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সঙ্গে এ জায়গায় আর একত্র হতে পারব কি না।

২. হে মানবমণ্ডলী, স্মরণ রাখো, তোমাদের আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তোমাদের আদি পিতা একজন, অনারবদের ওপর আরবদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তদ্রূপ সাদার ওপর কালোর কোনো প্রাধান্য নেই। আল্লাহ ভীতিই শুধু শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মানদণ্ড।

৩. তোমাদের পরস্পরের রক্ত ও ধন-সম্পদ আজকের দিন, এ মাস এবং এ শহরের মতো পবিত্র।

৪. শোনো, জাহেলিয়াতের সব কিছু আমার পদতলে পিষ্ট করা হয়েছে। জাহেলিয়াতের রক্তের দাবিও রহিত করা হলো।

৫. জাহেলি যুগের সুদ রহিত করা হলো। আমাদের মধ্যকার প্রথম যে সুদ আমি রহিত করছি তা হলো, আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিবের সুদ। এখন থেকে সব ধরনের সুদ হারাম করা হলো।

 

৬. স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আল্লাহর আমানতস্বরূপ তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কলেমার মাধ্যমে হালাল করা হয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে যে তারা তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে স্থান দেবে না, যাদের তোমরা পছন্দ করো না।

তারা এরূপ করলে প্রহার করতে পারো। তবে কঠোর প্রহার করবে না। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো, তোমরা যথাযথ অন্ন-বস্ত্র প্রদান করবে।

৭. আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ।

৮. হে জনতা, মনে রেখো, আমার পরে কোনো নবী নেই। তোমাদের পরে কোনো উম্মত নেই। ফলে তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত করবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবে, রমজানের রোজা রাখবে, স্বেচ্ছায় ধন-সম্পদের জাকাত দেবে, আল্লাহর ঘরে হজ করবে, শাসকের আনুগত্য করবে।
যদি তোমরা এসব পালন করো, তাহলে তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে (ইবনে মাজাহ)।

৯. হে মানবমণ্ডলী, পিতার অপরাধে পুত্র দায়ী হবে না এবং পুত্রের অপরাধে কোনো পিতাকে দায়ী করা হবে না।

১০. তোমাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হবে। তোমরা তখন কী বলবে? সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যুত্তরে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দেব যে আপনি দ্বিনের দাওয়াত দিয়েছেন, আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন, ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

মহানবী (সাঃ) এ কথা শুনে শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে তিনবার বলেন, হে রব, আপনি সাক্ষী থাকুন (সহিহ মুসলিম)

১১. প্রত্যেক মুসলমান ভাই ভাই। তোমরা তোমাদের দাস-দাসী সম্পর্কে সতর্ক থাকবে। তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খেতে দেবে। তোমরা যা পরিধান করবে তাদেরও তা পরতে দেবে। তাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবে। শাস্তি দেবে না।

১২. হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।





মহানবী (সাঃ) ভাষণ শেষ করলেন। এবং তাঁর চেহারা মোবারক উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি করুণ স্বরে করুণভাবে আকাশ পানে তাকালেন এবং তিনি বললেন, ‘হে মহান প্রভু! হে পরওয়ার দিগার! আমি কি তোমার দীনের দাওয়াত পরিপূর্ণভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। তখন উপস্থিত জনতা সবাই সম্মিলিতভাবে বললেন, নিশ্চয়ই আপনি আপনার দীন পরিপূর্ণভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন।‘ তখন তিনি আবার বললেন যে, ‘হে প্রভু! আপনি শুনুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, এরা বলেছে আমি আপনার দীনকে লোকদের নিকট পৌঁছাতে পেরেছি। আমি আমার কর্তব্য পালন করতে পেরেছি।

ভাবের আতিশয্যে নবী নীরব হলেন। জান্নাতি নূরে তাঁর চেহারা আলোকদীপ্ত হয়ে উঠল। এই মুহূর্তে কুরআনের শেষ আয়াতটি নাজিল হয়। ‘আজকের এই দিনে তোমাদের দীনকে পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পূর্ণ করে দিলাম। ইসলামকেই তোমাদের ওপর দীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’

হযরত রাসূল (সাঃ) কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। জনতাও নীরব। কিছুক্ষণ পর হযরত (সাঃ) জনতার দিকে তাকালেন এবং করুণ গম্ভীর কণ্ঠে বললেন বিদায় বন্ধুগণ, বিদায়।

হজরত রাবিয়া ইবনে উমাইয়া ইবনে খালফ জনতার কাছে উচ্চকণ্ঠে বিদায় হজ্জের ভাষণ এর বাণী পৌঁছে দেন (ইবনে হিশাম)।

(আল-কোরআন, পারা: ৬, সূরা-৫ মায়িদাহ, আয়াত: ৩)। (বিশ্বনবী, গোলাম মোস্তফা; সীরাতুন নবী (সা.), ইবনে হিশাম (র.), খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৭৩-২৭৭; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসীর (র.), খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৯৮ ও ৩২০-৩৪২, ই. ফা. বা.)।


ইহুদী জাতির ইতিহাস

ইহুদী জাতির ইতিহাস

 ইহুদী ও ইসরাইল- এ শব্দ দুটো কোথাও পড়লে, কিংবা দেখলেই ধর্মীয় অনুভূতিগতভাবেই হোক আর যে কারণেই হোক, বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেন। এর পেছনে কারণ কী?

কারণটা নিহিত রয়েছে ঐতিহাসিক কিছু দ্বৈরথ, ইহুদী ষড়যন্ত্র আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের সদস্য ইহুদী রাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপর নির্মম নির্যাতন- এ সব কিছুর মাঝে। তাছাড়া গাজা বা পশ্চিম তীরের সংঘাত এবং অতি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবের বদলে পবিত্র জেরুজালেমকে ঘোষণা করায় এই ইহুদী বিদ্বেষ স্বাভাবিকভাবেই আবার দেখা যায় সাধারণ মুসলিমদের মাঝে।কিন্তু এ তো গেলো মুদ্রার এক পিঠ। অন্য পিঠে কী আছে? ফিলিস্তিনিরা নির্যাতিত হচ্ছে এটা সর্বজনবিদিত, কিন্তু ইসরাইলের দৃষ্টিকোণটা এখানে কী? ইহুদীরা কীসের ভিত্তিতেই বা জেরুজালেমকে নিজেদের দাবী করে? কীসের জোরে তারা বিশ্বাস করে এই পবিত্র ভূমি কেবলই তাদের? যদি ইহুদীদের দিক থেকে এরকমটা না করা হতো তবে এই সংঘাতের সৃষ্টি হতো না। তাই অরাজকতা, অস্থিরতা, অন্যায়- যে নামেই এ পরিস্থিতিকে ডাকা হোক না কেন, এর পেছনের গভীর কারণ লুকিয়ে আছে ইহুদী জাতির ইতিহাসে, যে ইতিহাসটা তারা নিজেরা বিশ্বাস করে।পাঠকদের জন্য একদম গোড়া থেকে ধীরে ধীরে এ ঐতিহাসিক সিরিজে তুলে ধরা হবে মুসলিম ও ইহুদীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এই জাতির ইতিহাসকে, যে জাতি ‘বনী ইসরাইল’ নামেও পরিচিত। শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ নয়, পবিত্র ভূমি দখলের আড়ালের বিশ্বাসটুকু জানতেও সাহায্য করবে এ সিরিজটি। হযরত ইয়াকুব (আ) থেকে শুরু করে একদম হযরত ঈসা (আ) এর আগ পর্যন্ত (অর্থাৎ খ্রিস্টধর্ম প্রচার শুরু হবার আগপর্যন্ত) ঘটনাগুলো তুলে ধরা হবে, মুদ্রার দু’পিঠ থেকেই। পবিত্র কুরআনতাফসির ইবনে কাসিরে যে ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করা আছে, সে একই ঘটনাগুলো ইহুদীরা কীভাবে দেখে? যে ঘটনাগুলো তাফসিরে বা মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে নেই, সেই শূন্যস্থান আমরা পূরণ করব ইহুদীদের নিজস্ব ঘটনা দিয়ে, যেগুলোর মাধ্যমে পরিষ্কার হয়ে যাবে, তারা কেন জেঁকে বসেছে পবিত্র ভূমিতে। এ সিরিজে জানা যাবে অলৌকিক সিন্দুক ‘তাবুত-এ-সাকিনা’ বা ‘আর্ক অফ দ্য কোভেন্যান্ট’ এর বিস্তারিত- এ ব্যাপারে কুরআন এবং ইহুদী গ্রন্থ কী বলে? মূসা (আ), ইউশা (আ), দাউদ (আ), সুলাইমান (আ) থেকে ঈসা (আ) পর্যন্ত কী কী ঘটনা ঘটেছিল যার মাধ্যমে পবিত্র ভূমির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি হয়? মিসর থেকে লোহিত সাগর বিভক্ত করে কীভাবে ইসরাইল জাতি মুক্তি পেয়েছিল? পবিত্র ভূমিতে পৌঁছাবার আগে কেন বছরের পর বছর তাদের মরুভূমিতে শাস্তি পেতে হয়েছিল? পরবর্তীতে কেন এবং কীভাবে ইহুদীরা নির্বাসিত হয় পবিত্র ভূমি থেকে, কী ছিল তাদের দোষ? কেন তারা ঈসা (আ) বা যীশু খ্রিস্টকে অস্বীকার করেছিল? তারা বিশেষ কার প্রতীক্ষায় ছিল? কীভাবে নির্মিত হলো বাইতুল মুকাদ্দাস? আর এখন এ ভূমিতে এতদিন পরে ফিরেই বা ইহুদী জাতির কী যায় আসে?এ প্রশ্নগুলোর উত্তর অল্প অল্প করে আমরা বের করবার চেষ্টা করব ইসলামি উৎসগুলোর পাশাপাশি ইহুদী বিশ্বাসের তাওরাত ও অন্যান্য নবীদের নিয়ে লেখা পুস্তক থেকে; এছাড়াও আমরা ঘেঁটে দেখব ইহুদী ব্যাখ্যা সম্বলিত গ্রন্থসহ হিব্রু বাইবেল বা তানাখ আর তাদের আইনগ্রন্থ তালমুদেও এ ব্যাপারে কিছু রয়েছে কিনা।

‘ইহুদী’ বা বহুবচন ‘ইহুদীম’ (יְהוּדִים‎‎) শব্দটি হিব্রু। সেমেটিক ধর্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো ধর্ম হল ইহুদী ধর্ম (Judaism)। অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, ইহুদীদের ইংরেজিতে Jew বলে কেন? আরামায়িক শব্দ ‘ইয়াহুদাই’ (Y’hūdāi) থেকে গ্রিক শব্দ Ioudaios আসে। হিব্রুতে উচ্চারণ ‘এহুদী’ বা ‘ইহুদী’। আর এরপরে শব্দের শুরুর Y স্বরবর্ণ ইউরোপীয় ভাষায় J দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। সে হিসেবে ইহুদী –> জিহুদি –> জিউ (জ্যু)। মূল ইয়াহুদাই শব্দের আক্ষরিক অর্থ আসলে ‘যে বাস করে এহুদিয়া প্রদেশে’, কিন্তু সেই এহুদিয়া-র হিব্রু ‘হুদা’ অর্থ আসলে ‘যে নিজেকে সমর্পণ করে’ (আরবি ‘মুসলিম’ শব্দের অর্থও একই)। এহুদা ছিলেন হযরত ইয়াকুব (আ) বা ইসরাইল (আ) এর চতুর্থ পুত্র। তাঁর বংশধরেরা থাকতেন সেই প্রদেশে। তবে পারিভাষিকভাবে, বনী ইসরাইলকেই ইহুদী বলা হয়। সত্যি বলতে, ‘ইহুদী’ যতটা না ধর্মপরিচয়, তার চেয়ে বেশি বংশপরিচয় কিংবা জাতিপরিচয় (Ethnicity)। এ কারণে, একজন ইহুদী নাস্তিক হতেই পারেন, কিন্তু যেহেতু তিনি ইসরাইলের বংশধর, সেজন্য বংশগত বা জাতিগতভাবে তিনি ইহুদী নামেই পরিচিত হবেন।মূলত ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে এই ভূমি দখলের সমস্ত পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের পক্ষবাদী যে ইহুদীরা তাদেরকে জায়নবাদী বা জায়োনিস্ট (Zionist) বলে। উনিশ শতকের শেষ দিকে শুরু হওয়া এ জায়োনিজমের বাস্তবিক প্রয়োগ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, এর প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জল নামের একজন ইহুদী। জায়োনিজম শব্দটা এসেছে জায়োন থেকে। জায়োন বা সিওন হলো জেরুজালেমের একটি টিলা, বাইতুল মুকাদ্দাস যে টেম্পল মাউন্টে অবস্থিত তারই দক্ষিণ অংশ। এ জায়গাটা জেরুজালেমের পবিত্রতম জায়গা বিধায় জায়ন শব্দ দিয়েই জেরুজালেম বা ‘সিটি অফ ডেভিড (দাউদ)’-কে বোঝানো হয়। এক্ষেত্রে, জায়োনিজম আন্দোলন হলো ‘জায়ন’ বা ইহুদীদের ‘জেরুজালেম’ পুনরুদ্ধার আন্দোলন, বৃহত্তর অর্থে পুরো পবিত্র ভূমি অধিকার করে নেয়া। এই পবিত্র ভূমি বলতে আসলে কী বোঝায় সেটা আমরা এ সিরিজে ধীরে ধীরে অগ্রসর হলেই জানতে পারব। তবে এ সিরিজের টপিক নিয়ে পাঠকদের মনে প্রশ্ন থাকবেই অনেক, যেগুলোর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পর্বে উত্তর দেয়া হবে; প্রশ্নগুলো জ্ঞানপিপাসী পাঠকেরা কমেন্ট সেকশনে করতে পারেন।কিন্তু এ জায়োনিস্টদের নিন্দিত কর্মের জন্য এমনকি নিরীহ ইহুদী পরিবারদেরও ফলাওভাবে ঘৃণা করা হয়, যারা হয়ত এ মতবাদ সমর্থন করে না। যেমন নিচের ছবিতে ইহুদীদের দেখা যাচ্ছে এই মৌলবাদী গোঁড়া জায়োনিজমের প্রতিবাদ করতে।সবচেয়ে পুরনো সেমিটিক ধর্ম হলেও ইহুদীদের সংখ্যা কিন্তু খুবই কম, তবে অনেক প্রভাবশালী জায়গাতেই তাদের অবস্থান রয়েছে। ইসরাইল ন্যাশনাল নিউজ ডট কমের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ইহুদী জনসংখ্যা ১৪৪ লক্ষ। অর্থাৎ বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ০.২% !! এর মাঝে ৬৩ লক্ষ ইসরাইলে আর বাকিরা বাকি দেশগুলো মিলিয়ে- প্রধানত আমেরিকা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড আর কানাডায়। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ৭৫% হলো ইহুদী।

ইহুদীরা মুসলিমদের মতই বংশ পরম্পরা হিসেব করে হযরত ইব্রাহিম (আ) থেকে। অর্থাৎ পিতা হযরত ইব্রাহিম (আ)। ইব্রাহিমের (আ) প্রধান ২ ছেলে ইসমাইল আর ইসহাক (ইহুদী তাওরাত অনুযায়ী ইব্রাহিম (আ) এর পরে আরো ছয় পুত্র হয় তৃতীয় স্ত্রী কেতুরার গর্ভে)। এর মাঝে, হযরত ইসহাক (আ) (ইংরেজিতে Isaac) এর ছেলে ছিলেন ইয়াকুব (আ) (Jacob)। ইয়াকুব (আ) এর আরেক নাম ছিল ইসরাইল (আ); এ নামটাই ইহুদীরা গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ ইয়াকুব (আ) থেকেই আমাদের এই ইতিহাস শুরু হবে। তবে এই ‘ইতিহাস’ কিন্তু কেবলই ধর্মীয় ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এগুলো তেমন আমলে আনা হয় না। একদমই যে কিছু পাওয়া যায়নি তা নয়, তবে এত আগের খুব কম জিনিসই পাওয়া গিয়েছে।ইহুদীদের বর্তমান ভাষা হিব্রু, যদিও দু’হাজার বছর আগে ঐ অঞ্চলে আরামায়িক ছিল কথ্য ভাষা, হিব্রু প্রধানত লিখবার ভাষা (ফর্মাল)। হিব্রুকে তারা বলে ‘পবিত্র ভাষা’; আনুমানিক ২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত হিব্রুর ব্যবহার ছিল ভালই। কিন্তু এরপর প্রায় ১৬টি শতাব্দী জুড়ে হিব্রু ছিল কেবলই একটি মৃত ভাষা। কিন্তু ১৮৮১ সালে এলিয়েজার বিন ইয়াহুদা (Eliezer Ben-Yehuda) এ মৃত ভাষাকে পুনর্জীবিত করবার কাজ শুরু করেন এবং বিংশ শতকের প্রথমদিকে পুরোপুরি চালু হয়ে যায় হিব্রু। এখন ইসরাইলের একটি রাষ্ট্রভাষা হিব্রু। মুসলিমদের পবিত্র ভাষা আরবি ও ইহুদীদের পবিত্র ভাষা হিব্রু দুটোই সেমিটিক ভাষা হবার কারণে এদের মাঝে অনেক মিল। দুটোই ডান থেকে বামে লিখা হয়। তবে আরবিতে ২৯/৩০টি বর্ণ থাকলেও হিব্রুতে মাত্র ২২টি বর্ণ; তবে আরবির চেয়ে হিব্রুতে স্বর উচ্চারণ বেশি করা যায়।‘বেসিক’ যতটুকু জানবার সেটা তো জানা হলোই, আর এছাড়াও যা যা জানবার প্র


য়োজন হবে সেগুলো জায়গা মতো উল্লেখ করা হবে। এবার কাহিনীতে প্রবেশ করবার পালা। তবে দেরি না করে এখনই শুরু করা যাক, হারিয়ে যাওয়া যাক বহু আগের মধ্যপ্রাচ্যে, যখনও ইহুদী শব্দটির প্রচলন হয়নি!

খ্রিস্টের জন্মের প্রায় সতেরশ বছর আগে। ‘বীরশেবা’ নামের এক মরুঅঞ্চল থেকে রওনা দিলেন মানুষটি। গন্তব্য তাঁর ‘হারান’, সেখানে তাঁর যাত্রাবিরতি নেবার পরিকল্পনা।হারানে পৌঁছালেন যখন তখন সূর্য ডুবে গিয়েছে। রাতের বেলা তিনি ভ্রমণ না করবার সিদ্ধান্ত নিলেন। যেখানে আছেন সেখানেই একটা পাথর যোগাড় করে মাথার নিচে দিয়ে শুয়ে পরলেন। আর ঘুমে তলিয়ে গেলেন পরক্ষণেই।

একটা খুবই অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে তাঁর হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। তিনি নিজেই স্বপ্নের কথা মনে করে বলে উঠলেন, “জানতাম না আমি, এটা ঈশ্বরের জায়গা!” তিনি জায়গাটার নাম দিলেন ‘বেথেল’। ‘বেথ’ মানে হিব্রুতে ঘর, আর ‘এল‘ হলো ঈশ্বর/আল্লাহ। তাই বেথেল মানে ‘ঈশ্বরের ঘর’। আর মানুষটির নাম? হযরত ইয়াকুব (আ)।

ইহুদীদের তাওরাত ও তাফসিরে ইবনে কাসিরে এ ঘটনাটি বলা আছে। কিন্তু কী ছিল সে স্বপ্ন যা দেখে তাঁর এটা মনে হলো? আর কীভাবেই বা এরপর কাহিনী গড়িয়ে তাঁর ছেলে হযরত ইউসুফ (আ) মিসরের এক দাস থেকে মিসর শাসকের ডান হাত হয়ে গিয়েছিলেন? তার চেয়েও বড় কথা, পবিত্র কুরআনে যেখানে বনী ইসরাইলকে তৎকালীন ‘সেরা জাতি’ (বাকারা ২:৪৭ ও ২:১২২) বলা হয়েছিল, এত উচ্চ স্থান থেকে কীভাবে তাদের পতন শুরু হয়? ইসলাম ও ইহুদী ধর্ম উভয় অনুযায়ীই বা কী করেছিল তারা?

মক্কা ও মসজিদুল হারামের ইতিহাস

মক্কা ও মসজিদুল হারামের ইতিহাস


  • মক্কা সম্মানিত শহর। ‘বাইতুল আতিক’ পুরাতন ঘর অর্থাৎ ‘কা‘বা’র সম্মানের কারণে মক্কাকে সম্মানিত করা হয়েছে। সকল শহরের চেয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট প্রিয় এ শহর, মুসলিমদের কিবলা ও হজের স্থান।
  • এ পবিত্র শহরকে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কয়েকটি নামে উল্লেখ করেছেন:
  1. মক্কা ২) বাক্কা ৩) আল-বালাদ ৪) আল-কারিয়াহ ৫) উম্মুল কুরা
  • ‘‘আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন একটি জনপদের, যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত’’।[1]

  • সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশের জন্য আল্লাহ তা‘আলা মক্কার কসম করে বলেছেন; ‘‘আমি এ নগরের শপথ করছি’’।[2]
  • মক্কায় বসবাস উত্তম, এখানে নেকী ও ইবাদত উত্তম; ঠিক তেমনি খারাপ কাজ এবং পাপের গুনাহও অনেক বেশি। মক্কাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। মক্কায় মহামারী/প্লেগ রোগ ছড়াবে না কখনও, মক্কায় দজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। মক্কা প্রবেশ এর সকল পথে আল্লাহর ফেরেশতারা রক্ষী হিসাবে অবস্থান করছেন।
  • আব্দুল্লাহ ইবন আদী ইবন আল-হামরা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘‘আল্লাহর কসম, হে মক্কা তুমি আল্লাহর সকল ভূমির চেয়ে উত্তম ও আমার নিকট অধিক প্রিয়। আমাকে যদি তোমা হতে বের হওয়ার জন্য বাধ্য না করা হত তাহলে আমি কখনো বের হতাম না’’।[3]
  • কা‘বা ঘর ও এর চারপাশে তাওয়াফের জায়গা বেষ্টন করে যে মসজিদ স্থাপিত তা মসজিদুল হারাম নামে পরিচিত। কা‘বা ঘরের চারপাশে তাওয়াফের জায়গার মেঝেকে মাতাফ বলা হয়। কা‘বা ঘরের তাওয়াফ শুরু করার কর্নারটি হাজরে আসওয়াদ কর্নার নামে পরিচিত। এর ডান পাশের কর্নারটি ইরাকি কর্নার, তার ডান পাশের কর্ণারটি শামি কর্নার এবং তার ডান পাশের কর্ণারটি ইয়েমেনী কর্নার নামে পরিচিত।
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মসজিদে হারাম ব্যতীত আমার এ মসজিদে (মসজিদে নববী) সালাত অন্য স্থানে সালাতের চেয়ে ১ হাজার গুণ উত্তম, আর মসজিদে হারামে সালাত ১ লক্ষ সালাতের চেয়ে উত্তম’’।[4]
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় কা‘বা ও মসজিদুল হারামকে কেন্দ্র করে এর চারপাশে অনেক বসতি গড়ে উঠেছিল যা পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান মুসল্লীদের জন্য সালাতের জায়গার সংকুলান হচ্ছিল না।
  • খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে প্রথমে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও পরে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদের আশেপাশের জায়গা লোকদের কাছ থেকে ক্রয় এর সীমা বর্ধিত করেন ও প্রাচীর দিয়ে দেন। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়ের মসজিদের পূর্বদিকে এবং আবু জাফর মনসুর পশ্চিম দিকে ও শামের দিকে প্রশস্ত করেন। পরবর্তীতে বেশ কয়েকজন মুসলিম শাসকদের আমলে মসজিদুল হারামের সীমা বর্ধিত হয় ও সংস্কার সাধিত হয়।
  • এরপর প্রায় এক হাজার বছর মসজিদের সীমা বর্ধিত করার কোনো কাজ করা হয় নেই। অতঃপর ১৩৭০ হিজরীতে সৌদি বাদশাহ আব্দুল আযীয ইবন আব্দুর রহমান আল সাউদ এর আমলে মসজিদের জায়গা ছয় গুণ বৃদ্ধি করে আয়তন হয় ১,৮০,৮৫০ মিটার। এ সময়ে মসজিদে মার্বেল পাথর, আধুনিক কারুকার্য, নতুন মিনার সংযোজন করা হয়। সাফা মারওয়া দোতলা করা হয়। ছোট বড় সব মিলিয়ে ৫১টি দরজা তৈরি করা হয় মসজিদে।
  • এরপর সৌদি বাদশা ফাহাদ ইবন আব্দুল আযীয প্রশস্তকরণের কাজে হাত দেন। তিনি মসজিদের দোতলা, তিন তলা ও ছাদে সালাতের ব্যাবস্থা করেন। তিনি মসজিদের আধুনিকায়নের জন্য অনেক কাজ করেন।

  • হারামের প্রশস্তকরনের কাজ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ কাজ; কিন্তু মুসল্লিদের এক ইমামের পিছনে একত্রিত করাও ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগে মসজিদে চার মাযহাবের লোকেদের চারটি আলাদা মুসল্লা গড়ে উঠেছিল। এক আযানের পর চার আলাদা জায়গায় চার মাযহাবের লোকদের চারটি আলাদা জামাআত হতো। যার ফলে মুসলিমদের মাঝে ভাঙ্গন ও অনেক বিদ‘আতি প্রথা প্রচলন শুরু হয়। কিন্তু পরে আল সাউদ এর আমলে সকল মুসলিমকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সালাফে সালেহীনদের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন ও সকল মুসলিমদের এক ইমামের পিছনে সালাত আদায়ের আদেশ দেন।
  • সর্বশেষ ২০১০ খৃঃ সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর তত্ত্বাবধানে মসজিদুল হারামের তাওয়াফ ও মূল মসজিদ প্রশস্তকরনের দায়িত্ব পায় সৌদি ইবন লাদেন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। এখন এ প্রশস্তকরনের কাজ প্রতীয়মান। এ কাজ শেষ হতে ২০১৭-১৮ সাল লাগবে আশা করা যায়। বর্তমানে প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষাধিক মুসল্লি একত্রে সালাত আদায় করতে পারেন এবং আশা করা যায় এ কাজ শেষ হলে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক মুসল্লী একত্রে সালাত আদায় করতে পারবেন।
  • মসজিদ আল-হারাম বা হারাম শরীফ বা মসজিদে হারাম। যা পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত। বিশ্ব মুসলিম এ মসজিদে অভ্যন্তরে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরীফের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্থাপনাগুলোর মধ্যে এ মসজিদ আল-হারাম প্রথম।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত

 ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাত বহুদিনের। মধ্যে কয়েক বছর বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি। অনেকটা চুপচাপই ছিল দুই পক্ষ। তবে গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ উত্তেজনা চরমে ওঠে।

চলছে ইসরায়েলি বিমান হামলা। চলছে রকেট হামলা। প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। আহত হচ্ছে নারী, শিশু। হঠাৎ এই উত্তেজনা চরমে ওঠার কারণ খুঁজেছেন নিউইয়র্ক টাইমসের আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রতিনিধি প্যাট্রিক কিংসলে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘর্ষের কারণ খুঁজতে যেতে হবে প্রায় এক মাস পেছনে। পবিত্র রমজান মাসের প্রথম রাত ১৩ এপ্রিল জেরুজালেমের আল–আকসা মসজিদে ঢুকে পড়েছিল ইসরায়েলি পুলিশের একটি দল। তারা কেটে দিয়েছিল মসজিদের লাউড স্পিকারের তারগুলো।

আবার ওই দিন ছিল ইসরায়েলের মেমোরিয়াল ডে। মসজিদের কাছাকাছি ওয়েস্টার্ন ওয়ালে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, আজানের কারণে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই তার কেটে দেয় তারা। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন মসজিদের ছয়জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে তিনজন সে সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। তবে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ইসরায়েলি পুলিশ।


জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ একরিমা সাবরির মতে, এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল আর ফিলিস্তিনের মধ্যে যে সংঘর্ষ চলছে, তার শুরুটা এই ঘটনা থেকেই। আগুনে ঘি ঢেলেছিল আল–আকসা মসজিদে পুলিশের এই অভিযান। তিনি বলেন, ‘মসজিদে ইসরায়েলি পুলিশের ওই অভিযানের কারণেই পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে যায়।’ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১টি শিশুও রয়েছে। ইসরায়েল একের পর এক বিমান হামলা চালাচ্ছে। হামাসও রকেট ছুড়ছে। শনিবার ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ১২ তলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। ওই ভবনে বার্তা সংস্থা এপি ও কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার কার্যালয় ছিল। একই দিনে গাজার পশ্চিমাঞ্চলে শরণার্থীশিবিরেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে এক পরিবারের ১০ সদস্য নিহত হয়। গুরুতর আহত হয় পাঁচ মাসের এক শিশু। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এমন ঘটনা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলি সরকার আধিপত্য বজায় রাখতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইসরায়েলের চোখে সন্ত্রাসী দল হামাস ফিলিস্তিনি আন্দোলনে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে চাইছে।

ওয়ার্ল্ড জায়োনিস্ট অর্গানাইজেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সাবেক স্পিকার আব্রাহাম বার্গ বলেন, গাজায় বছরের পর বছর ধরে চলা অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা, পশ্চিম তীর দখল করে রাখা ও আরবদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের পরিণতিতেই এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আব্রাহাম বার্গ সংঘর্ষের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তুলনা দিয়ে বলেন, ‘সব ইউরেনিয়াম রাখা ছিল। শুধু ট্রিগার চাপার অপেক্ষা ছিল। আর সেই ট্রিগার ছিল আল–আকসা মসজিদ।’


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার পরও বড় কোনো সংঘর্ষ হয়নি। বড় চারটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরও কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। দুই মাস আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কয়েকটি ঘাঁটি স্থাপনের পর সংঘর্ষ হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তখনো তেমনটি ঘটেনি।ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তারা গোপন এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলের বড় হুমকি হলো ইরান ও লেবানন। গত মার্চে কূটনীতিকেরা সেনাবাহিনীর দুজন জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক সে সময় জানিয়েছিলেন, ওই দুই জেনারেলের মধ্যে সংঘর্ষ নিয়ে কোনো আশঙ্কা ছিল না।

পিরামিড

পিরামিড

 পিরামিড: পিরামিড (Pyramid) হলো এক প্রকার জ্যামিতিক আকৃতি বা গঠন যার বাইরের তলগুলো ত্রিভূজাকার (Triangular) এবং যারা শীর্ষে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। পিরামিড একটি বহুভূজাকৃতি ভূমির উপর অবস্থিত। বহুভূজের উপর অবস্থিত যে ঘনবস্তুর একটি শীর্ষবিন্দু থাকে এবং যার পার্শ্বতলগুলো প্রত্যেকটি ত্রিভুজাকার, তাকে পিরামিড বলে। পিরামিড পৃথিবীর প্রাচীন ৭ম আশ্চযের একটি। প্রাচীন মিশর শাসন করতেন ফিরাউন (প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা রাজাদের ফিরাউন বলা হতো.পিরামিড প্রাচীন মিসরীয়দের এক অন্যন আশ্চর্য কীর্তি.গ্রিক ভাষায়   পিরামিড শদ্বের অর্থ “খুব উচু”. পিরামিড হলো পাথরের তৈরি আকাশচুম্মী   বিশাল এীকোণাকার সমাধিসেীদ. এ পর্যন্ত ৮০টির বেশী পিরামিডের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত   হয়েছে.যার ৭০টিরও বেশী কালের সাখী হয়ে টিকে আছে. পিরামিডগুলোর মধ্যে   সবচেয়েবড় ও উচু হলো নীলনদের মরুময় গিজা এলাকাই অবস্হিত বিথ্যাত ফারাও   খুফুর(খ্রিষ্টপূর্ব ২৭০০-২৬৭০)পিরামিড.১৩ একর জমির উপর ২৩ লাখ খন্ড চুনাপাথরের   তৈরি এই পিরামিডটি ৪৮১ ফুট বা ১৪৭ মিটার উচু. এক লাখ কারিগর ২০ বছরের   প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়.প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল মৃত্যুর পর জীবন আছে. 



  সে জীবনে ফারাওদের নেতৃত্ব প্রয়োজন.জীবনটাকে যাতে উপভোগ করা যায়, সে চিন্তায় মিশরীয়রা অস্থির থাকতো। ব্যক্তির গুরুত্বের ওপর নির্ভর করে গুরুত্ব আরোপ করা হতো এ ব্যাপারে। ব্যক্তি যতো গুরুত্বপূর্ণ হতো এ কাজে গুরুত্ব ততো বেশি বেড়ে যেতো। পরবর্তী জীবনের আরাম-আয়েশের জন্য স্বভাবতই ফারাওদের ব্যাপারেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। ক্ষমতায় আসা নতুন ফারাওয়ের প্রথম কাজ সম্পন্ন করা। প্রত্যেকেই চাইতেন বিশাল আয়তনের হোক তার সমাধিক্ষেত্র। অনেকেই মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত সমাধিক্ষেত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যেত। এসব সমাধিক্ষেত্র আসলে মৃতের আত্মার ঘর। মিশরীয়রা মনে করত, লাশ বা মৃতদেহ টিকে থাকার ওপরই নির্ভর করে আত্মার বেঁচে থাকা বা ফিরে আসা। এ কারণেই মৃতদেহ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মমি করতো তারা। আত্মার বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রয়োজনীয় নানা জিনিস। তাই নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, বিশেষ করে খাবার-দাবার মৃতদেহের সাথে দিয়ে দিতো তারা। সমাধিস্তম্ভ প্রধানের দায়িত্ব ছিলো দস্যুদের হাত থেকে মৃতদেহ আর তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র রক্ষা করার। কিন্তু কবরে সমাধিত ব্যক্তিটি কত বিপুল পরিমাণ বিত্ত আর ক্ষমতাবান ছিল তা জাহিরের উদ্দেশ্যেও নির্মাণ করা হতো পিরামিড। তাই ফারাওদের মৃতদেহের সাথে কবরস্থ করা হতো বিপুল ধন-সম্পদ। সমাজের বিত্তশালীদের কবরেও মূল্যবানসামগ্রী দেয়া হতো। এমনকি, নিন্মশ্রেণীর মানুষদের কবরেও সামান্য পরিমাণ হলেও কিছু খাবার রেখে দেয়া হতো।

মিশরীয় প্রাচীন সভ্যতা : 

ইসলামের একটি ধর্ম আর এই ধমের অনুসারীদের বলা হয় মুসলিম. জাতি হিসেবে মুসলমানদের উত্থান সভ্যতার সাথে জড়িত. তাই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কতি বিষয়ে 

ধারনা থাকতে হবে. এজন্য প্রাক ইসলামী আরবের ইতিহাস এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কতি পর্যালোচনা করার পূর্বে তৎসংশ্লিষ্ট কতিপয় প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস আলোচনা অপরিহার্য. প্রাচীন সভ্যতার শুরু থেকে এুমবিকাশের পথ ধরে আধুনিক মানুষের ঊওরন.

মানব সভ্যতার ইতিহাস কখন থেকে শুরু হয়েছে তা বলা নিশ্চিত করে বলা ‍মুসকিল .

তবে মানব সভ্যতার ইতিহাস এুমবিবতনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং উত্থান পতনের মাধ্যেমে বিকাশ লাভ করেছে. পৃথিবীর ইতিহাসে প্রাচীনতম সভ্যতার অন্যতম সভ্যতার হলো মিশরীয় সভ্যতা. এই সভ্যতা শুরু হয় নীলনদের অববাহিকায়.প্রত্নতও্ববিদের মতে মিশরীয় ইতিহাসের শুরু হয় 5,000 খ্রিষ্টপূর্বাদ্বে নবোপলীয় যুগে. মিশরীর সভ্যতার অন্যতম নিদশন হলো নীল নদ.নীল নদের বদ্বীপে বাস করে প্রায় চার কোটি মানুষ.










আজ আমরা নীলনদ সর্ম্পকে জানবো:

বিম্মিত হেরোডোটাস বলেছিলেন “মিশর নীল নদের দান”কারণ প্রতিবছর জুন মাস থেকে অক্টোবর পযর্ন্ত নীল নদের উভয় তীর প্লাবিত হয়.উভয় তীর দৈর্ঘ্যে 600 মাইল এবং প্রস্হে 10 মাইর পলিমাটি ভরে যায়.পলিমাটিতে উর্বর ভূমিতে প্রচুর ফসল উপাদিত হয়ে মিশরকে সমৃদ্ধিশালী করে তলে.মিশরের উওরে ভৃমধ্যসাগর ও দক্কিণে বর্তমান সুদান. এর পূর্ব দিকে প্রবাহমান লোহিত সাগর ও পশ্চিমে রয়েছে বর্তমান লিবিয়া.

প্রাচীন মিশরের প্রায় সমস্ত সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও এর তীরেই অবস্থিত। বিশাল ব-দ্বীপ সৃষ্টি করে নিলনদ  ‍ভূমধ্যসাগর গিয়ে মিশেছে।

বৈশিষ্ট্য : 


  •  উৎপত্তিস্থল থেকে শেষ প্রান্তের মাঝে এর দূরত্ব সর্বাধিক।
  •  তা প্রবাহিত হয় বড় বড় পাথর ও বালুময় প্রান্তরের উপর দিয়ে, যাতে কোন শ্যাওলা ও ময়লা-আবর্জনা নেই
  • আর সব নদ-নদীর পানি যখন কমে যায়, এর পানি তখন বৃদ্ধি পায় আর অন্যসব নদীর পানি যখন বৃদ্ধি পায়, এর পানি তখন কমে যায়

  • ১০টি দেশ নীল নদের আশীর্বাদপুষ্ট